১২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৫ সফর ১৪৪৮ হিজরি
নোটিশ :
সারা দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ। চলছে আগ্রহীদের ইমেইল/ হোয়াটসঅ্যাপ এ সিভি পাঠানোর জন্য বলা হলো

সাঁথিয়ায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীতে বিএনপি-জামায়াত মুখোমুখী উত্তেজনা; বিএনপির বিক্ষোভ পণ্ড

  • Update Time : ০৬:২০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / 27

 

স্টাফ রিপোর্টার:
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় জুমআর নামাজে নিজামীপুত্রের ইমামতী নিয়ে দ্বন্দে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

সর্বশেষ জামাতের বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির পর বিএনপির পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল পণ্ড হয়েছে। এতে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে সাঁথিয়ার পৌর এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সাঁথিয়ার পৌর এলাকার আফতাবনগর জামে মসজিদে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নিজামীপুত্র ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন জুমআর নামাজে ইমামতী করতে চান। এ সময় বিএনপি অনুসারীরা তাতে আপত্তি জানালে তৎক্ষণাৎ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপিকে দায়ী করে সংবাদ সম্মেলন করেন নিজামিপুত্র স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি সাইয়েদ আব্দুল্লাহকে দায়ী করেন।

জামায়াতের সেই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এতে জামায়াত এমপি মোমেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার ও পরিকল্পিত নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়।

বিএনপির এই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে এবং বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে একইদিন বিকেলে পৌর শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা। পরে সন্ধ্যায় আবার পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় বিএনপি।

সন্ধ্যায় নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে পৌনে আটটার দিকে পৌর বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করতে গেলে পাশেই তিন মাথা মোড়ে অবস্থান নেয় জামায়াত নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সবশেষ মিছিলটি পৌর সদরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ না করে উপজেলা চত্ত্বর থেকে সংক্ষিপ্ত করে জুলকারনাইন চত্ত্বরে এসে পথসভায় শেষ হয়।

এদিকে এ নিয়ে সাঁথিয়া পৌর সদরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে ওই এলাকার সকল দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিক ভাষ্য, আমাদের সংবাদ সম্মেলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় সন্ধ্যায় আমরাও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি দেই। কিন্তু জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেশী ও বিদেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলার জন্য পাশেই অবস্থান নেয়।

তিনি আরো বলেন, তাদের কাছে একাত্তরের সেই অস্ত্রও রয়েছে। সেগুলো দিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় এই এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে চায়। কিন্তু বিএনপি সেটি হতে দেবে না। নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে এর কঠোর জবাব দেয়া হবে।

তবে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছে জামায়াত।

এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী আনিসুর রহমান বলেন, ওখানে জামায়াতের সব নেতাকর্মী অবস্থান নিয়েছিলো বিষয়টি এমন নয়। ওখানকার স্থানীয় কিছু কর্মী সমর্থক একত্রিত হয়ে বিএনপির রাতের মিছিল বন্ধের দাবি জানায়। পরে পুলিশের আহ্বানে তারা সরে আসে। এখানে লাঠিসোঁটা বা অস্ত্রশস্ত্রে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছাড়া কিছু নয়। বিএনপির এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, মিছিলকে কেন্দ্র করে তিন রাস্তার মোড়ের দুই পাশে দুই পক্ষ অবস্থান নেয়। তৎক্ষণাৎ পুলিশ মাঝখানে অবস্থান নিয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত করে। পরে বিএনপি নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত মিছিল শেষে ফিরে যায়। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উভয় পক্ষই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

.site-footer.site-footer–4{ display: none; }

সাঁথিয়ায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীতে বিএনপি-জামায়াত মুখোমুখী উত্তেজনা; বিএনপির বিক্ষোভ পণ্ড

Update Time : ০৬:২০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার:
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় জুমআর নামাজে নিজামীপুত্রের ইমামতী নিয়ে দ্বন্দে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

সর্বশেষ জামাতের বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির পর বিএনপির পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল পণ্ড হয়েছে। এতে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে সাঁথিয়ার পৌর এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) সাঁথিয়ার পৌর এলাকার আফতাবনগর জামে মসজিদে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নিজামীপুত্র ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন জুমআর নামাজে ইমামতী করতে চান। এ সময় বিএনপি অনুসারীরা তাতে আপত্তি জানালে তৎক্ষণাৎ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপিকে দায়ী করে সংবাদ সম্মেলন করেন নিজামিপুত্র স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি সাইয়েদ আব্দুল্লাহকে দায়ী করেন।

জামায়াতের সেই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এতে জামায়াত এমপি মোমেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার ও পরিকল্পিত নৈরাজ্য সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়।

বিএনপির এই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে এবং বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে একইদিন বিকেলে পৌর শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা। পরে সন্ধ্যায় আবার পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে আরেকটি বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় বিএনপি।

সন্ধ্যায় নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে পৌনে আটটার দিকে পৌর বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করতে গেলে পাশেই তিন মাথা মোড়ে অবস্থান নেয় জামায়াত নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সবশেষ মিছিলটি পৌর সদরের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ না করে উপজেলা চত্ত্বর থেকে সংক্ষিপ্ত করে জুলকারনাইন চত্ত্বরে এসে পথসভায় শেষ হয়।

এদিকে এ নিয়ে সাঁথিয়া পৌর সদরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে ওই এলাকার সকল দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মল্লিক ভাষ্য, আমাদের সংবাদ সম্মেলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় সন্ধ্যায় আমরাও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি দেই। কিন্তু জামায়াত শিবিরের সন্ত্রাসীরা দেশী ও বিদেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলার জন্য পাশেই অবস্থান নেয়।

তিনি আরো বলেন, তাদের কাছে একাত্তরের সেই অস্ত্রও রয়েছে। সেগুলো দিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় এই এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে চায়। কিন্তু বিএনপি সেটি হতে দেবে না। নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে এর কঠোর জবাব দেয়া হবে।

তবে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেছে জামায়াত।

এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী আনিসুর রহমান বলেন, ওখানে জামায়াতের সব নেতাকর্মী অবস্থান নিয়েছিলো বিষয়টি এমন নয়। ওখানকার স্থানীয় কিছু কর্মী সমর্থক একত্রিত হয়ে বিএনপির রাতের মিছিল বন্ধের দাবি জানায়। পরে পুলিশের আহ্বানে তারা সরে আসে। এখানে লাঠিসোঁটা বা অস্ত্রশস্ত্রে হামলা পরিকল্পনার অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছাড়া কিছু নয়। বিএনপির এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, মিছিলকে কেন্দ্র করে তিন রাস্তার মোড়ের দুই পাশে দুই পক্ষ অবস্থান নেয়। তৎক্ষণাৎ পুলিশ মাঝখানে অবস্থান নিয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত করে। পরে বিএনপি নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত মিছিল শেষে ফিরে যায়। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উভয় পক্ষই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।