১২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৫ সফর ১৪৪৮ হিজরি
নোটিশ :
সারা দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ। চলছে আগ্রহীদের ইমেইল/ হোয়াটসঅ্যাপ এ সিভি পাঠানোর জন্য বলা হলো

ঈদগাঁওতে প্রযুক্তির দাপটে অস্তিত্বহীন জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলাধুলা

  • Update Time : ০৯:৩৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • / 46

 

এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও, কক্সবাজার থেকে:

ঈদগাঁওতে গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলাধুলা। খেলাধুলার মধ্যে রয়েছে- কানামাছি, দাঁড়িয়াবান্ধা, ডাংগুটি, ঘোড়া দৌড়, গোল্লাছুট, চারগুটি, মোরগ যুদ্ধ ও হাডুডু। গ্রামে আগের মতো চোখে পড়েনা ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগিতাও। ফুটবল আর ক্রিকেট খেলা চোখে পড়ে।

স্থানীয় প্রবীণ মুরুব্বীরা জানান, আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্রযুক্তির ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলাধুলা। সময়ের বিবর্তনে মাঠ, বিল-ঝিলের খালি জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা । একটা সময় ছিল গ্রামে শিশু ও যুবকরা পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলায় অভ্যস্থ ছিল। অবসরে দলবেঁধে খেলতো নানান খেলা। বাড়ির উঠান থেকে শুরু করে রাস্তার আনাচে-কানাচে, খোলা মাঠে কম পরিসরে খেলা যেত। বর্তমান সময়ে ছেলে মেয়েরা কিন্তু মোবাইলে আসক্ত।

জানা যায়, বর্তমান যুগে গ্রামীন পরিবেশে বেড়ে উঠা শিশু-কিশোরসহ যুবকরা বাড়ীঘর, দোকানপাঠ বা নির্জন কোন স্থানে বসে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ভিডিও গেম,কার্টুন নিয়ে সময় পার করে। যার ফলে মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। একসময় গ্রামবাংলার ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা ও বয়স্ক ব্যক্তিরা তাদের নানান কর্মব্যস্ততার ফাঁকে হরেক ধরনের খেলায় সময় কাটাতেন। তৎমধ্যে কানামাছি, দাঁড়িয়াবান্ধা, ডাংগুটি, ঘোড়া দৌড়, ফুটবল, কানামাছি, গোল্লাছুট, চারগুটি, দীর্ঘলাফ, মোরগ যুদ্ধ, হাডুডু খেলা ছিল অন্যতম, বিনোদনমূলক, স্বাস্থ্য সচেতনমূলক এবং প্রতিভা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। প্রযুক্তির দাপটে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামীণ খেলাধুলা বিলুপ্ত হয়ে অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খেলার মাঠের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে, গ্রামের মানুষ বেকারত্বের ফলে প্রতিনিয়ত শহরমুখী হতে হচ্ছে। শিশুদের মোবাইল ব্যবহারে প্রবনতা বাড়ছে। বর্তমান প্রজন্মের তরুনদের মোবাইল আসক্তি কমাতে হলে, গ্রামীণ খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়াতে হবে।

শিশু-শিশোরদের অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তির ফলে তারা একটা সময় গিয়ে একগুয়েমি বা মেজাজী স্বভাবের হয়ে উঠে। মোবাইলে নানাজাতের গেমের কারনে আরও বেশি খারাপ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিশোর গ্যাং, শিশু অপরাধ সবই যেন মোবাইল আসক্তির ফল। যদি তাদের মোবাইল আসক্তি থেকে দুরে রাখতে হয়, তাহলে গ্রামীণ খেলাধুলার প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

.site-footer.site-footer–4{ display: none; }

ঈদগাঁওতে প্রযুক্তির দাপটে অস্তিত্বহীন জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলাধুলা

Update Time : ০৯:৩৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

 

এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও, কক্সবাজার থেকে:

ঈদগাঁওতে গ্রামাঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলাধুলা। খেলাধুলার মধ্যে রয়েছে- কানামাছি, দাঁড়িয়াবান্ধা, ডাংগুটি, ঘোড়া দৌড়, গোল্লাছুট, চারগুটি, মোরগ যুদ্ধ ও হাডুডু। গ্রামে আগের মতো চোখে পড়েনা ঘুড়ি উড়ানোর প্রতিযোগিতাও। ফুটবল আর ক্রিকেট খেলা চোখে পড়ে।

স্থানীয় প্রবীণ মুরুব্বীরা জানান, আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্রযুক্তির ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলাধুলা। সময়ের বিবর্তনে মাঠ, বিল-ঝিলের খালি জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা । একটা সময় ছিল গ্রামে শিশু ও যুবকরা পড়ালেখার পাশাপাশি বিভিন্ন খেলাধুলায় অভ্যস্থ ছিল। অবসরে দলবেঁধে খেলতো নানান খেলা। বাড়ির উঠান থেকে শুরু করে রাস্তার আনাচে-কানাচে, খোলা মাঠে কম পরিসরে খেলা যেত। বর্তমান সময়ে ছেলে মেয়েরা কিন্তু মোবাইলে আসক্ত।

জানা যায়, বর্তমান যুগে গ্রামীন পরিবেশে বেড়ে উঠা শিশু-কিশোরসহ যুবকরা বাড়ীঘর, দোকানপাঠ বা নির্জন কোন স্থানে বসে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ভিডিও গেম,কার্টুন নিয়ে সময় পার করে। যার ফলে মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। একসময় গ্রামবাংলার ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা ও বয়স্ক ব্যক্তিরা তাদের নানান কর্মব্যস্ততার ফাঁকে হরেক ধরনের খেলায় সময় কাটাতেন। তৎমধ্যে কানামাছি, দাঁড়িয়াবান্ধা, ডাংগুটি, ঘোড়া দৌড়, ফুটবল, কানামাছি, গোল্লাছুট, চারগুটি, দীর্ঘলাফ, মোরগ যুদ্ধ, হাডুডু খেলা ছিল অন্যতম, বিনোদনমূলক, স্বাস্থ্য সচেতনমূলক এবং প্রতিভা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। প্রযুক্তির দাপটে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামীণ খেলাধুলা বিলুপ্ত হয়ে অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে খেলার মাঠের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে, গ্রামের মানুষ বেকারত্বের ফলে প্রতিনিয়ত শহরমুখী হতে হচ্ছে। শিশুদের মোবাইল ব্যবহারে প্রবনতা বাড়ছে। বর্তমান প্রজন্মের তরুনদের মোবাইল আসক্তি কমাতে হলে, গ্রামীণ খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়াতে হবে।

শিশু-শিশোরদের অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তির ফলে তারা একটা সময় গিয়ে একগুয়েমি বা মেজাজী স্বভাবের হয়ে উঠে। মোবাইলে নানাজাতের গেমের কারনে আরও বেশি খারাপ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিশোর গ্যাং, শিশু অপরাধ সবই যেন মোবাইল আসক্তির ফল। যদি তাদের মোবাইল আসক্তি থেকে দুরে রাখতে হয়, তাহলে গ্রামীণ খেলাধুলার প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে।